Breaking News

প্রয়াত বর্ধমানের রাজকুমার ড. প্রণয়চাঁদ মহতাব

Prince of Burdwan Dr. Pronoy Chand Mahtab died in Calcutta. Maharajkumar Pronoy Chand Mahtab. Prince Danny.

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- মঙ্গলবার প্রয়াত হলেন বর্ধমানের অন্যতম রাজকুমার ড. প্রণয়চাঁদ মহতাব ওরফে প্রিন্স ড্যানি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। রেখে গেলেন স্ত্রী নন্দিনী মহতাব, এক পুত্র অজয়চাঁদ মহাতাব এবং দুই নাতি করঞ্জয় চাঁদ মহতাব ও বিভাঞ্জয় চাঁদ মহতাব-সহ পরিবারের অন্যান্যদের। প্রণয়চাঁদ মহতাব ছিলেন বর্ধমানের শেষ মহারাজাধিরাজ উদয় চাঁদ মহতাবের কনিষ্ঠ সন্তান। মঙ্গলবার কালীঘাটের কেওড়াতলা মহাশশ্মানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এদিন তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আলিপুরের বিজয় মঞ্জিলে তাঁর মরদেহ শায়িত রাখা হয়। খবর পেয়ে এদিন তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে বিজয় মঞ্জিলে ছুটে যান বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস-সহ বর্ধমানের অনেক বিশিষ্টজনেরা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি রাজকুমার ড্যানি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগতে শুরু করেন। ছিল শ্বাসকষ্টও। উত্তর কলকাতার একটি নার্সিংহোমে তিনি ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে, রাজকুমার প্রণয়চাঁদ মহতাবের মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বর্ধমানেও। Prince of Burdwan Dr. Pronoy Chand Mahtab died in Calcutta. Maharajkumar Pronoy Chand Mahtab. Prince Danny. বর্ধমানের বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ড.সর্বজিত যশ জানিয়েছেন, বর্ধমানের শেষ মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ ১৯৫৫ সালে বর্ধমান ছেড়ে চলে যান। তারপরে তিনি বর্ধমানের ওপর দিয়ে বেনারস যাবার সময় ট্রেন পথে গেলে ট্রেন বর্ধমান সীমানায় ঢোকা থেকে ধানবাদ ঢোকার প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত ট্রেনের জানালার কাঁচ নামিয়ে দিতেন বলে শোনা যায়। যেহেতু এই বর্ধমান ছিল তাঁর সাম্রাজ্য তাই তিনি বর্ধমানকে আর দেখতে চাইতেন না। এমনকি এই সময় তিনি ট্রেনে চোখ বন্ধ করেই বসে থাকতেন। সর্বজিতবাবু জানিয়েছেন, বর্ধমান থেকে রাজশাসন চলে গেলেও একমাত্র প্রণয়চাঁদ মহতাবই আমৃত্যু বর্ধমানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে গেছেন। রাজপরিবারের ৩৬ টি মন্দির অথবা দেবালয়ের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিনি মহাতাব ট্রাস্ট গড়ে দিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে আর্থিক কারণে সেগুলির মধ্যে বেশ কিছুকে আলাদা আলাদা ট্রাস্ট তৈরি করে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। যার মধ্যে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির অন্যতম। সর্বজিতবাবু জানিয়েছেন, ড. প্রণয়চাঁদ মহাতাবের ইতিহাসের প্রতি প্রবল টান ছিল। সেজন্যই তিনি একমাত্র রাজপরিবারের ব্যক্তি যিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৩ সালে এবং পরবর্তীকালে যাদবপুর থেকেও ইতিহাসের ওপর পিএইচডি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ড. প্রণয়চাঁদের ইচ্ছা ছিল তাঁর গবেষণার বিষয় নিয়ে একটি বই প্রকাশের। যেহেতু তাঁর পিএইচডির বিষয় ছিল ‘দি রাজাস এণ্ড নবাবস অফ বেঙ্গল’ (১৯১১-১৯১৯) এবং সেখানে তাঁর পরিবারের অনেক অজানা তথ্য উল্লেখ রয়েছে তাই তাঁর জীবিতকালে তা প্রকাশ পেলে পরিবারের অপরাপর সদস্যরা কীভাবে তা গ্রহণ করবেন এই ভেবে তিনি বই প্রকাশ থেকে বিরত থাকেন। এব্যাপারে তিনি তাঁর শেষ ইচ্ছাও জানিয়ে যান, তাঁর মৃত্যুর পরেই যেন ওই বই প্রকাশিত হয়। ফলে প্রিন্স ড্যানির মৃত্যুর পর তাঁর গবেষণার বিষয় সম্পর্কেও নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, প্রণয়চাঁদ মহতাব ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বর্ধমানে শেষবার আসেন। ওই সময় তিনি শিবরাত্রিতে বর্ধমানের বিজয়ানন্দ বিহার এবং রাধাবল্লভ জিউ মন্দিরে এসেছিলেন।

About admin

Check Also

CAB's U-15 district-level cricket Tournament started irresponsibly, breaking the rules

দায়সারা ভাবে শুরু হল সিএবি-র অনূর্ধ্ব-১৫ জেলাস্তরের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা

গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নিয়ম ভাঙাই এখন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্ধমান জেলা ক্রীড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *