
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় বাদ গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রায় ২ লক্ষ ভোটার। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমান জেলা নির্বাচনি আধিকারিক তথা জেলাশাসক আয়েষা রাণী এ.। এদিন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সর্বদলীয় বৈঠকের পর জেলাশাসক জানিয়েছেন, অল পার্টি মিটিং করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হলো। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কপি দেওয়া হলো। প্রত্যকে বিএলও-র কাছেও হার্ড কপি (প্রিন্ট) দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এসআইআর-এর কাজ শুরুর সময় পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১৬ টা বিধানসভায় মোট ভোটার ছিল ৪১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৯৫ ভোটার ছিল। এনুমারেশন ফর্ম সাবমিট হয়েছে ৩৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৬২০ টি। প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার ৭৫ টি নাম এই প্রক্রিয়াতেই কমেছে। এর মধ্যে ৯৯ হাজার ৩১৫ জন মৃত, বাকি ১ লক্ষ ২ হাজার ৭৩৪ জন স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া, অনুপস্থিত বা অন্যান্য কারণে কমেছে। একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে ৬ হাজার ২৬ টি। এছাড়াও পূর্ব বর্ধমান জেলায় নো ম্যাপিং ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ১ হাজারের মত, এই সমস্ত ভোটারের ২০০২ সালে নাম নেই, এমনকি এঁদের বাবা-মা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমা, দাদু-দিদার লিংক পাওয়া যায়নি। এই ভোটারদের শুনানির জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভায় এই নো ম্যাপিং-এর সংখ্যা সবথেকে বেশি, ৫.৩৮ শতাংশ। মঙ্গলকোটে সবথেকে কম, .৭৪ শতাংশ। শুনানিতে ইআরও এই সমস্ত ব্যক্তির ১১ টা কাগজ দেখবেন। প্রত্যেক বিডিও, এস ডি ও, জেলাশাসক অফিসে শুনানির জন্য প্রস্তাব পাঠান হয়েছে। এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নামের বানান ভুল, বাবার নামের মিল না পাওয়া ও বয়স সংক্রান্ত ভুল পাওয়া গিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলায় অন্তত ৪ লক্ষ ২৫ হাজার বলে সূত্রের খবর। এখনই সংশোধনের কোনও উপায় না থাকায়, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে কি না তার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট বিধানসভার ইআরও-রা নেবেন। শুনানিতে ভুল সংশোধন না হলে পরে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে ভোটারকে সেই নাম সংশোধনের জন্যে কমিশনে আবেদন করতে হবে। জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমানে ভোটার আর ভোটারের বাবার নামের বানান ভুল কিংবা অন্য ধরণের ভুল ধরা পড়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার। অন্যদিকে, বয়স-সংক্রান্ত ভুল পাওয়া গিয়েছে ৩৫ হাজার। ‘প্রোজেনি’ বা বংশ তালিকা দিয়ে গণনাপত্র পূরণ করেছেন এমন ভোটারদের বাড়ি গিয়ে আরও একবার যাচাই করা কিংবা ৪৮ বছরের বেশি বয়স অথচ ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় ছিল না, তাঁদের কাছে গিয়ে বিএলওদের যাচাই করার নির্দেশ ছিল। এ ছাড়াও পুরনো তালিকার নামের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে ভোটার কার্ডের নম্বর মেলেনি (এপিক)। ফলে, তাঁদের নাম বা বাবার নামের বানান খসড়া তালিকায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এদিন যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে পূর্ব বর্ধমান জেলার মোট ৩৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৬২০ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার – ২০১৯৩৯৪, মহিলা ভোটার – ১৯৫১১৭৫ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫১ জন।
E Purba Bardhaman Purba Bardhaman District News